Home » ভূতের গল্প » Bangla Golpo শ্মশানের ভূত Sasaner Bhoot – ০৩

Bangla Golpo শ্মশানের ভূত Sasaner Bhoot – ০৩

Bangla Golpo শ্মশানের ভূত – ০৩পর্বে আপনারা পড়বেন কিভাবে রতন তান্ত্রিক ব্রহ্মদৈত্য এর হাত থেকে গ্রামবাসীদের রক্ষা করলেন এবং তাকে গ্রাম থেকে বিতাড়িত করলেন।

Bangla Golpo শ্মশানের ভূত তৃতীয় পর্ব

পাঁচ

  রতন ঠাকুরের সাথে আমরা সবাই শ্মশানের সেই বট গাছের কাছে উপস্থিত হলাম। রাস্তার একপাশে শ্মশান আর অপর পাশে পুকুর। বাইরে থেকে দেখে মনে হচ্ছে গাছটা আর পাঁচটা গাছের মত। কিন্তু আমি জানি এই গাছে লুকিয়ে আছে এক অদৃশ্য বিভীষিকা, এক ব্রহ্মদৈত্য।

      ঠাকুর মশাই প্রথমে বটগাছটাকে ভালো ভাবে নিরীক্ষণ করলেন। তিনি কি বুঝলেন তিনিই জানেন। এরপর তিনি মাটি থেকে একটা কাঠি নিয়ে পাত্রের মধ্যে ডুবিয়ে তা থেকে কিছুটা জল আমার গায়ে ছিটিয়ে দিয়ে বললেন, “সুরেশ, এখানে উপস্থিত সব মানুষের গায়ে তাড়াতাড়ি চান জল ছিটিয়ে দাও।”

      আমি সবার গায়ে চান জল ছিটিয়ে পাত্রটা ঠাকুর মশাই কে দিলাম।

      তারপর তিনি বটগাছের চারিদিকে জল দিয়ে একটা বৃত্ত তৈরি করলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, “এটা কি করছেন, ঠাকুর মশাই?”

      “এটার নাম “চক্রাবদ্ধ”। এর কাজ যথাসময়ে জানতে পারবে।”, তিনি বললেন।

      সবাইকে উদ্দেশ্য করে তিনি বললেন, “সবাই শোনো, আমি যতক্ষণ না বলব এই গাছের কাছে কেউ আসবে না।”

      তারপর তিনি যা করলেন তা দেখে সবাই ভয়ে শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল। পাত্র থেকে কিছুটা জল নিয়ে তিনি বটগাছের ছিটিয়ে দিলেন। প্রথমে বট গাছের একটা ডাল নড়ে উঠলো, তারপর গোটা গাছ টা দুলতে শুরু করল। মনে হলো এইমাত্র কারো ঘুম ভাঙলো। এরপর শুনতে পেলাম একটা গম্ভীর ও কর্কশ গলা, “কে, কার এত বড় সাহস যে আমার ঘুম ভাঙায়?”

      আবার ব্রহ্মদৈত্য র সেই রক্ত হিম করা কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম “এই অসময়ে কার মরার বাসনা জেগেছে। দেবো এখনই সবকটার গলা মটকে।”

      ঠাকুরমশাই দেখি দিব্যি দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখে মুখে ভয়ের লেশমাত্র নেই। তিনি ঠাণ্ডা গলায় বললেন, “আমি, আমি তোর ঘুম ভাঙিয়েছি।”

      “তোর কি বাঁচার ইচ্ছে শেষ হয়ে গেছে? এত বড় সাহস ব্রহ্মদৈত্য র ঘুম ভাঙাস।”, অদৃশ্য প্রেত বলল।

      “তবে রে, তুই প্রেত সিদ্ধ রতন তান্ত্রিক কে ভয় দেখাস। এক সময় তোর মত হাজার হাজার প্রেতাত্মার মাঝখানে বসে এই শ্মশান ভূমিতে আমি তন্ত্র সাধনা করেছি। দাঁড়া, দেখাচ্ছি মজা।”, এই বলে তিনি পাত্র থেকে কিছুটা চান জল হাতে নিয়ে বট গাছের সেই ডালের দিকে ছুড়ে দিলেন।

সঙ্গে সঙ্গে গাছ থেকে একটা আর্তচিৎকার ভেসে আসলো। দেখলাম গাছের সেই ডালে একটা মানুষের আকৃতির আগুন জ্বলছে। বুঝলাম ঠাকুরের মন্ত্র বলে ব্রহ্মদৈত্য র গায়ে আগুন লেগে গেছে।

ছয়

      “বাছাধন এবার তুমি বুঝবে কার পাল্লায় পড়েছে। গাছে বসে আমার উপর মায়া সৃষ্টি করেছিলে না। মর, তুই মর। জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যা।”, আমি মনে মনে এই সব ভাবছি আর ব্রহ্মদৈত্য কে গালাগাল দিচ্ছি ঠিক এমন সময় দেখি রামলাল পুকুর থেকে এক বালতি জল নিয়ে বটগাছের দিকে এগোচ্ছে।

      আমি তাকে থামিয়ে করা সুরে বললাম, “কোথায় যাচ্ছ তুমি?”

      আমার ধমকে সে থতমত খেয়ে বলল, “আগুন নেভাতে।”

      “কেন?”

      “বা রে, ব্রহ্মদৈত্য আগুনে পুড়ে মরে যাবে না। তখন আমার সঙ্গে কে বন্ধুত্ব করবে?”

      “তোমার বুঝি কোন বন্ধু নেই?”

      “না”, এরপর সে কাঁদো কাঁদো স্বরে বলল, “জানো সুরেশ দা, আমার সাথে কেউ খেলে না। সবাই আমাকে পাগল বলে খেপায়।”

      “আচ্ছা সুরেশ দা, আমি কি সত্যিই পাগল?”

      রামলাল এর কথা শুনে তার উপর বড্ড মায়া হচ্ছিল। তাকে বললাম, “না, তুমি পাগল নও। আর কে বলেছে তোমার কোন বন্ধু নেই।” তার হাত ধরে বললাম, “আজ থেকে আমি তোমার বন্ধু। তোমার যখন খেলতে ইচ্ছা করবে আমার কাছে চলে আসবে।”

      “তুমি তো শহরে থাক। আমার সঙ্গে কখন খেলবে?”

      “আমি যখন বাড়িতে থাকব তখন আমার সঙ্গে খেলবে। তাছাড়া আমি সবাইকে বলে দেব তারা যেন তোমার সঙ্গে খেলে। এবার ঠিক আছে তো।”

      “কি মজা, কি মজা। সবাই আমার সঙ্গে খেলবে। সবাই আমার বন্ধু হবে।”

Bangla Golpo

“এবার জলের বালতি টা নিচে রেখে দাও। শুনলে না ঠাকুর মশাই একটু আগে বলল, “ব্রহ্মদৈত্য র কাছে যে যাবে তার ঘাড় মটকে মেরে ফেলবে।” তখন তুমি কার সাথে খেলবে।”

      আমার কথা শুনে রামলাল ভয়ে বালতিটা ফেলে দিয়ে আমার পিছনে দাঁড়াল আর বলল, “ওরে বাপরে, বাঁচাও। ব্রহ্মদৈত্য আমাকে মেরে ফেলবে।”

সাত

      ব্রহ্মদৈত্য র গায়ে আগুন লেগেই আছে। সঙ্গে তার তীব্র আর্তনাদ। সে ঠাকুর মশাই কে বলল, “এবার তুই মরবি।”

এরপর দেখি ব্রহ্মদৈত্য যে ডালে দাঁড়িয়েছিল সেই ডাল টা হঠাৎ দুলে উঠলো। মনে হল কেউ যেন লাফ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেখলাম মানুষের আকৃতির সে আগুনটা লাফ দিয়েছে এবং সে লাফ দিয়েছে ঠাকুর মশাই এর দিকে।”

      কিন্তু একি ব্রহ্মদৈত্য লাফ দিয়েই কিছুটা এগিয়ে মাটিতে পড়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে চক্রাবদ্ধর চারিদিকে একটা চোঙের মতো আগুনের প্রাচীর তৈরি হল এবং তা মাটি থেকে আকাশ পর্যন্ত ঠেকে গেল। সে লাফ দিয়ে ঠাকুর মশাই এর কাছে আসতে পারেনি। আর তার কারণ হলো ঠাকুর মশাই এর তৈরি অদৃশ্য চক্রাবদ্ধ কবজ, যেটা পার্ক হবার ক্ষমতা সেই ব্রহ্মদৈত্যের নেই। তিনি আগেই বুঝেছিলেন যে প্রেত তার উপর আক্রমণ করতে পারে এবং সেজন্যই তিনি প্রথমেই তার প্রতিকার করে রেখেছিলেন।

    চক্রাবদ্ধ স্পর্শ করা মাত্র ব্রহ্মদৈত্যর শরীরে লেগে থাকা আগুন দ্বিগুণ উৎসাহে জ্বলতে লাগলো এবং সাথে সাথে তারা আর্তনাদ ও দ্বিগুণ হয়ে গেল।

    এবার প্রেতের গলার আওয়াজ একটু নরম হলো। সে হাত জোড় করে ঠাকুর মশাই কে বলল, “আমাকে ছেড়ে দাও, মুক্ত করে দাও। এই যন্ত্রণা আর সহ্য করতে পারছি না।”

  “আমি জানতাম তুই আমার উপর আক্রমণ করবি। আর সেজন্য আমি আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলাম। স্বর্গ, মর্ত্য, পাতাল – তুই যেখানেই যাবি, এই আগুনের প্রাচীর থেকে বেরোতে পারবি না।” বললেন রতন ঠাকুর।

Bangla Golpo

    তিনি আবার বললেন, “তোকে ছেড়ে দিলে তুই আবার ফিরে আসবি, আবার মানুষের উপর মায়া সৃষ্টি করে তাদের মেরে ফেলবি। আমি তোকে ছাড়ব না।”

    “দোহাই আপনার, আমি কথা দিচ্ছি এই শ্মশান ভূমি ছেড়ে, এই গ্রাম ছেড়ে চলে যাব আর ভবিষ্যতে কোনদিন কোন মানুষকে হত্যা করব না। আমি প্রতিশ্রুতি দিলাম।”, বলল ব্রহ্মদৈত্য।

    “কথাটা যেন মনে থাকে। কিন্তু তুই এখান থেকে চলে গিয়েছিস সেটা কিভাবে প্রমান করবি?”

    “যাবার সময় আমি এই পুকুরের জল দু ভাগে ভাগ করে দিয়ে যাব।”, বলল ব্রহ্মদৈত্য।

    এরপর ঠাকুরমশাই পাত্র থেকে কিছুটা চান জল নিয়ে মন্ত্র পড়ে সেই জ্বলন্ত আগুনের প্রাচীরের মধ্যে নিক্ষেপ করলেন। মন্ত্র পাঠ করা জল পড়ার সাথে সাথে চক্রাবদ্ধ আকাশে মিলিয়ে গেল। ঠিক সাথে সাথে দেখলাম একটা অগ্নিমূর্তি দৌড়ে গিয়ে পুকুরে ঝাঁপ দিল এবং এক মুহূর্তের মধ্যে পুকুরের জল কে দুই ভাগে ভাগ করে দিয়ে পুকুরের অপর প্রান্তে গিয়ে মিলিয়ে গেল।

  ঠাকুরমশাই আমাদের সবাইকে বললেন, “সবাই বাড়ি যাও। আর কোন ভয় নেই। ব্রহ্মদৈত্য চলে গেছে। সে আর এখানে আসবে না।”

    গ্রামের সবাই চিন্তা মুক্ত হয়ে যে যার বাড়ি চলে গেল। আট

    এরপর আমি ও আমার দু একজন বন্ধু মাঝে মাঝে রতন ঠাকুরের বাড়ি যেতাম। তিনি তার জীবনের নানা অভিজ্ঞতা আমাদের বলতেন।

    এমন একদিন আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, “আচ্ছা ঠাকুরমশাই ব্রহ্মদৈত্য কি আবার ফিরে আসতে পারে?”

    তিনি বললেন, “না, সে আর ফিরে আসবে না। আমি মন্ত্র বলে এই শ্মশান ভূমি ও ওই গ্রামে তার প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছি। তবে হ্যাঁ, তার মধ্যে যদি প্রতিশোধ স্পৃহা তৈরি হয় তবে সে অন্য কাউকে পাঠাতে পারে।”

    “অন্য কেউ, তার মানে?”, আমি জিজ্ঞেস করলাম।

    আমার প্রশ্নের উত্তরে ঠাকুর মশাই বললেন, “ব্রহ্মদৈত্য তো আর দুনিয়ার একমাত্র প্রেত নয়। দুনিয়াতে আরো অনেক প্রেতাত্মা, শাকচুন্নি, পিশাচ, আরো অনেক কিছু আছে। সেই প্রেতের এমন কোনো অনুচর থাকতে পারে তো?”।

Bangla Golpo

    আবার বললেন, “প্রতিশোধ স্পৃহা খুবই ভয়ংকর। আর সেটা মানুষের মধ্যে যেমন আছে তেমনি আছে প্রেত যোনির জীবদের মধ্যেও। তারা সংসারের সব ধর্ম ত্যাগ করতে পারেনি বলেই তো প্রেত যোনিতে স্থান পেয়েছে।”

    আমি চমকে উনাকে কে বললাম, “আপনি গ্রামবাসীর ভালো করার জন্য নিজের উপর এত বড় বিপদ ডেকে আনলেন।”

    “যখন বিপদ আসবে তখন দেখা যাবে।”

   “অনেক বেলা হয়ে গেল। এখন তুমি তাড়াতাড়ি বাড়ি যাও। নয়তো তোমার মা আবার দুশ্চিন্তা করা শুরু করবেন”

    ঠাকুর মশাই কে বিদায় জানিয়ে আমি বাড়ি চলে এলাম।

Bangla Golpo

…….. সমাপ্ত…….

আমাদের নবীনতম লেখার update পাওয়ার জন্য Facebook, Twitter, Telegram Pinterest এ আমাদের ফলো করুন এবং Email এর মাধ্যমে বিনামূল্যে regular notification পাওয়ার জন্য Subscribe করুন

1 thought on “Bangla Golpo শ্মশানের ভূত Sasaner Bhoot – ০৩”

Leave a Comment