Home » গল্প » Motivational Story in Bengali অনুপ্রেরণামূলক গল্প, মোটিভেশনাল গল্প

Motivational Story in Bengali অনুপ্রেরণামূলক গল্প, মোটিভেশনাল গল্প

Motivational Story in Bengali : অনেক সময় জীবনে চলার পথে আমরা হতাশ হয়ে পরি, বুজতে পারি না কি করলে এই হতাশা, ব্যার্থতা থেকে ।

সেই সময় আমাদের মনে হয় কেউ আমাদের অনুপ্রাণিত করুক বা অনুপ্রেরণামূলক গল্প পড়ি।

আজ আমরা তোমার সামনে ১৫ টি মোটিভেশনাল ছোট গল্প উপস্থাপন করছি যা তোমাকে এই হতাশার জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে সাহস জোগাবে।

সূচিপত্র:
 [show]

Motivational Story in Bengali 1 : ঈগল ও মুরগির গল্প

এক বনে একটা বটগাছ 🌳 ছিল।

একটি ঈগল 🦅 সেই গাছের উপরে বাসা বেঁধে সেখানে ডিম পেড়েছিল। সেই গাছের নিচে একটি বুনো মুরগিও 🐓 ডিম পাড়ে।

একদিন ঈগলের 🦅 একটি ডিম 🥚 নিচে পড়ে মুরগির ডিমের সাথে মিশে গেল।

কিছু সময় পরে সেই ডিম থেকে ঈগলের বাচ্চা বের হল 🐣 এবং নিজেকে মুরগি 🐔 ভেবে বড় হল।

বাকি মুরগির সঙ্গে সে বড় হয়েছে। একটি মুরগি যে কাজ করে সে ও একই কাজ করে।

সে মুরগির মতো ঝাঁকুনি দেয়, মাটি খুঁড়ে শস্য খায় এবং মুরগি যতটা উড়তে পারে তত উঁচুতে সে উড়তে পারে।

একদিন সে আকাশে একটা ঈগল 🦅 দেখতে পেলো যেটি খুব গর্বের সাথে উড়ছিল ।

সে তার মা মুরগিকে 🐓 জিজ্ঞাসা করল যে পাখিটি খুব গর্বের সাথে উড়ছে তার নাম কি?

মুরগি মা উত্তর দিল সেই পাখিটা একটা ঈগল।

তখন বাচ্চা ঈগল 🐔 মুরগি মাকে জিজ্ঞেস করলো কেন সে নিজে এত উঁচুতে উড়তে পারে না?

মুরগি মা বলল, “তুমি মুরগি 🐓 বলে এত উঁচুতে উড়তে পারবে না”।

সে ঈগলটি মুরগি 🐔 মার কথা মেনে মুরগির মতো জীবনযাপন করতে করতে একদিন মারা যায়।

অনুপ্রেরণামূলক গল্প থেকে নীতি কথা:

আমরা যাই ভাবি বা নতুন কিছু করার চেষ্টা করি না কেন, অন্যরা আমাদের এই বলে থামায় যে তুমি এটা করতে পারবে না, এটা ঘটতে পারে না এবং আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করি এই ভেবে যে আমি সত্যিই এটি করতে পারব না এবং হাল ছেড়ে দিয়।

এর প্রধান কারণ হল নিজের প্রতি বিশ্বাস না থাকা, নিজের ক্ষমতার উপর বিশ্বাস না থাকা, নিজের কাজের প্রতি বিশ্বাস না থাকা।

বন্ধুরা, লোকে যা খুশি তাই বলুক, নিজের উপর আস্থা হারাবেন না, নিজেকে চিনুন।

জয় নিশ্চিত হলে কাপুরুষরাও লড়াই করে, তাদের বলা হয় সাহসী, যারা পরাজয় নিশ্চিত হয়েও হাল ছাড়ে না!

আরও পড়ুন:

মোটিভেশনাল ছোট গল্প 2 : দুনিয়া শুধু তামাশা দেখে

এক বাড়িতে আগুন 🔥🔥 লেগে যায় এবং সবাই সেই আগুন নেভাতে থাকে।

সেই বাড়িতে একটা পাখির বাসাও 🪺 ছিল। সেই পাখিটা 🦜 তার ঠোঁটে জল ভরে আগুনে ঢালতে শুরু করে। সে বারবার গিয়ে জল 💦💦 এনে আগুনে ঢেলে দিতে থাকে।

 একটা কাক এটা দেখছিল এবং সে পাখিটিকে বলল, “এই যে পাগল, তুমি এই আগুন নিভানোর জন্য যতই চেষ্টা কর না কেন, এটা নিভবে না।”

তখন পাখিটা বলে উঠল, “আমি জানি, আগুন নিভবে না, কিন্তু যখনই এই আগুনের কথা বলা হবে, তখন আমি আগুন 🔥 নিভিয়ে ফেলার দলে গণ্য হব আর তুমি গণ্য হবে তামাশা 👏 দেখার দলে।”

মোটিভেশনাল ছোট গল্প থেকে নীতি বাক্য:

আমাদের জীবনেও অনেক মানুষ আছে যারা আমাদের পরিশ্রমের চেয়ে আমাদের পরাজয় দেখতে পছন্দ করে। এই ধরনের লোকদের শনাক্ত করা খুব কঠিন নয়। তারা সেই লোক যারা তোমাকে প্রতিনিয়ত উপহাস করে।

এই ধরনের লোকেরা সবসময় তোমাকে নিরুৎসাহিত করবে। তাই নিজেকে সবসময় এই ধরনের লোকদের থেকে দূরে রাখো।

মনে রাখবে যে তুমি একা অনেক কিছু করতে পারো, শুধু নিজের উপর বিশ্বাস রাখা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: একাকিত্ব নিয়ে ১৪০ টি ক্যাপশন, উক্তি

অনুপ্রেরণামূলক গল্প 3 : ফকিরের গল্প

নদীর ধারে 🏞️ এক ফকির 👨‍🦼 বসে ছিল।

এক ব্যক্তি 💁‍♂️ পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ফকিরকে জিজ্ঞেস করল, “কী করছেন এখানে বসে বসে?”

ফকির বলল, “আমি অপেক্ষা করছি পুরো নদী শুকিয়ে যাওয়ার জন্য যাতে আমি নদী পার হতে পারি।”

লোকটা বলল, “বাবা তুমি কি রকম কথা বলো 🤦‍♂️, পুরো জল শুকানোর অপেক্ষায় তুমি কখনো নদী 🏞️ পার হতে পারবে না?”

তখন সেই ফকির বলল, “আমি মানুষকে এটাই বোঝাতে চাই যে, তোমরা যারা সব সময় বলতে থাকো যে, জীবনের সব দায়-দায়িত্ব পূর্ণ হলেই ⌛ আমাদের খুশি হওয়া উচিত, মজা করা উচিত, ঘোরাঘুরি করা, সবার সাথে দেখা করা, সেবা করা উচিত; তারা ঠিক কথা বলে না।”

অনুপ্রেরণামূলক গল্প থেকে নীতি বাণী

একদিন আমাদের জীবন শেষ হয়ে যাবে কিন্তু এই দায়িত্ব কখনো শেষ হবে না।

আমাদের জীবনের এই দায়িত্বগুলি আমাদেরকে জীবনের পথে চলার সাথে সাথে নিতে হবে এবং প্রতিটি কাজ করতে হবে যা আমাদের সুখ দেবে।

আমাদের দায়িত্বের বোঝা কখনোই এতটা বাড়ানো উচিত নয় যে জীবনে শুধু দুঃখই থেকে যায়।

আরও পড়ুন: ১১০ টি সুপ্রভাত শুভেচ্ছা বার্তা

Motivational Story in Bengali 4 : কাঁকড়া ও সমুদ্রের ঢেউ

একবার একটি কাঁকড়া 🦀 সমুদ্র সৈকতে তার নিজের মজায় যাচ্ছিল আর তার মাঝে মাঝে পিছনে ফিরে তার পায়ের দাগ দেখছিল।

সে একটু এগিয়ে যাবে এবং তারপরে পায়ের ছাপ দেখতে পেছন ফিরে আসবে এবং সেগুলির তৈরি নকশা দেখে খুশি হবে।

এদিকে একটি শক্তিশালী ঢেউ 🌊 এসে তার পায়ের সব ছাপ মুছে দিল।

এতে কাঁকড়াটা 🦀 খুব রেগে গেল এবং ঢেউয়ের 🌊 উদ্দেশে বলল, “তোমাকে আমি বন্ধু মনে করতাম কিন্তু তুমি এটা কি করলে? তুমি আমার বানানো সুন্দর পায়ের ছাপ গুলো মুছে দিলে? কি রকম বন্ধু তুমি❓❓”

কাঁকড়ার 🦀 কথা শুনে ঢেউ 🌊 বললো, ” ওই দিকে দেখো, জেলেরা পায়ের ছাপ দেখেই কাঁকড়া ধরছে। বন্ধু, ওরা যেন তোমাকে ধরতে না পারে, সেই জন্য তোমার পায়ের মুছে দিচ্ছি।”

Motivational Story in Bengali থেকে নীতি শিক্ষা 

সত্যি কথা হল অনেক সময় আমরা আমাদের সামনের ব্যক্তির কথা বোঝার চেষ্টা করি না এবং তাদের ভুল বুঝি।

প্রতিটি মুদ্রার দুটি দিক থাকে।

মনে মনে কারো জন্য খারাপ ভাবার চেয়ে ভালো জিনিসগুলি সঠিকভাবে বোঝো এবং সিদ্ধান্ত নাও।

আরও পড়ুন: মহাত্মা গান্ধীর ১০১ টি উক্তি

অনুপ্রেরণার গল্প 5 : সাধু ও দরিদ্র লোকের গল্প

একদিন এক অতি জ্ঞানী প্রতাপী সাধু মহারাজ এক শহরে এসেছিলো।

অনেক দরিদ্র, দুঃখী, কষ্টগ্রস্ত লোক 🙍 তাঁর কাছে আশীর্বাদ পেতে আসতে লাগল।

এমনই এক দুঃখী, দরিদ্র লোক তার কাছে এসে বলল, “সাধু বাবা, আমি খুব গরীব, আমার অনেক ঋণ আছে, আমি খুব বিষন্ন। আমার কিছু উপকার করো’।

সাধু মহারাজ তাকে একটি উজ্জ্বল নীল রঙের পাথর 💎 দিয়ে বললেন, ‘এটি একটি মূল্যবান পাথর, যাও এবং এই পাথরটা যতটা পারো বেশি দামে বিক্রি করো।”

লোকটি সেখান থেকে চলে যায় এবং পাথরটা বিক্রির উদ্দ্যেশে এক ফল বিক্রেতার 🍇 কাছে যায়।

ফল বিক্রেতা তার পরিচিত। সে তাকে পাথরটি দেখিয়ে তার মূল্য জানতে চায়।

ফল বিক্রেতা বলল, “আমার মনে হয় এটা নীল রঙের একটা কাঁচ। মহাত্মা তোমাকে এটা ঠিক সেই ভেবেই  দিয়েছেন। হ্যাঁ এটা দেখতে সুন্দর ও চকচকে। তুমি আমাকে এটা দাও, আমি তোমাকে এর জন্য ১০০০ টাকা 💰 দেব।”

হতাশ হয়ে লোকটি তার অপর এক পরিচিতের কাছে গেল, যিনি ছিলেন মৃৎপাত্রের ব্যবসায়ী 🏺।

তিনি পাথরটা সেই ব্যবসায়ীকে দেখালেন এবং সেটা বিক্রি করার জন্য মূল্য জানতে চাইলেন।

ব্যবসায়ী বললেন, “এই পাথরটি একটি বিশেষ রত্ন 💎। আমি এর জন্য তোমাকে ১০,০০০ টাকা 💰💰 দেব।

লোকটি ভাবতে লাগলো পাথরটার দাম হয়ত আরো বেশি হবে। এই ভেবে সে সেখান থেকে চলে গেল।

এবার লোকটি সেই পাথরটা একজন স্বর্ণকারকে দেখালেন।

স্বর্ণকার পাথরটা মনোযোগ দিয়ে দেখে বলল, “এটা খুবই মূল্যবান এবং এর জন্য আমি তোমাকে ১,০০,০০০ টাকা 💰💰💰 দেব।”

লোকটি এখন বুঝতে পারল যে পাথরটা অমূল্য।

সে ভাবল পাথরটা একজন হীরা ব্যবসায়ীকে দেখালে কেমন হয়।

এই ভেবে সে শহরের সবচেয়ে বড় হীরা ব্যবসায়ীর কাছে গেল। হীরা ব্যবসায়ী পাথরটা 💎 দেখে হতবাক হয়ে গেল।

তিনি সেই পাথরটা কপালে ছুঁয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “কোথা থেকে পেলে এই অমূল্য রত্ন? আমি আমার সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করলেও তার মূল্য দিতে পারব না।”

অনুপ্রেরণার গল্প থেকে নীতি কথা

আমরা নিজেদেরকে কিভাবে মূল্যায়ন করব?

আমাদের সম্পর্কে অন্যরা যা বলে তা থেকে?

আমাদের জীবন অমূল্য, কেউ তোমার জীবনের মূল্য দিতে পারবে না। তুমি নিজে যা ভাবো তাই কোরো। অন্যের নেতিবাচক মন্তব্য দ্বারা নিজের অবমূল্যায়ন কখনো কোরো না।

আরও পড়ুন:

নীতি কথা মূলক গল্প 6 : জ্ঞান, সম্পদ ও বিশ্বাস

গল্পটা তিন বন্ধুর 👪 – জ্ঞান, সম্পদ ও বিশ্বাস।

তিনজনই খুব ভালো বন্ধু ছিল। তিনজনের মধ্যেই অনেক প্রেম ❤️ ছিল।

একবার কোনো কারণে তিনজনকে আলাদা হতে হলো। তারপর তিনজন একে অপরকে জিজ্ঞেস করল আজকের পর কোথায় দেখা হবে।

তখন জ্ঞান বলল – “আমি মন্দিরে, মসজিদে 🏯🕍 এবং বইয়ে মিলিত হব।”

ধন বলল – “আমি ধনীদের সাথে দেখা করব।”

বিশ্বাস চুপ 🤐 করে রইলো কিছু বললো না।

দুই বন্ধু 🤼‍♂️ তাকে তার নীরবতার কারণ জিজ্ঞেস করলে।

বিশ্বাস কাঁদতে কাঁদতে 😭😭 বললো, “একবার চলে গেলে 🚶 আর কখনো দেখা করতে পারবো না।”

নীতি কথা মূলক গল্প থেকে নীতি বাণী

এই ছোট গল্পটি আমাদের শেখায় যে আপনি যখনই চান জ্ঞান এবং অর্থ পেতে পারেন তবে বিশ্বাস এমন একটি জিনিস যা একবার ভেঙে গেলে তা ফিরে পাওয়া খুব কঠিন।

Also Read: আব্দুল কালামের অনুপ্রেরণামূলক বাণী

Motivational Story in Bengali 7 : বাবা ও ছেলের গল্প

এক ছেলে 🙍 তার বাবাকে জিজ্ঞেস করলো- “বাবা, মা 🤱 যখন আমাকে কোলে তুলে নেয়, আমাকে কোমরের কাছে রাখে। কিন্তু তুমি যখন আমাকে কোলে তোলো, তখন আমাকে তোমার কাঁধে বসিয়ে দাও। কেন এমন করো❓”

তার বাবা 🧔 খুব সুন্দর করে উত্তর দিলেন, “বাছা, একজন মা চান সে যত দূর দেখতে পারে তার সন্তান যেন তত দূর দেখতে পায়। আর একজন বাবা চায় তার সন্তান যেন তত দূর দেখতে পায় যতটা তিনি নিজেও না দেখতে পারেন না।”

Motivational Story in Bengali থেকে নীতি বাক্য

একজন বাবা 🧔 সবসময়ই চান যে তার সন্তান জীবনে আরও বড় হোক এবং তার চেয়ে বেশি খ্যাতি অর্জন করুক।

মা 🤱 হোক বা বাবা 🧔, দুজনেই তাদের সন্তানদের জীবনে সাফল্য 🕺 দেখতে চান।

আরও পড়ুন: প্রেমিক প্রেমিকার জন্য ১০১ টি প্রেমের স্ট্যাটাস

পৃথিবীর সেরা মোটিভেশনাল গল্প 8 : সন্ন্যাসী ও রাজা

একবার এক সন্ন্যাসী 🧙 এক রাজ্যে এসে সোজা রাজার প্রাসাদে চলে গেল। সেই সন্ন্যাসীর পোশাক দেখে রাজার সৈন্যদের 💂 কেউ তাকে ভিতরে যেতে বাধা দিলনা। সন্ন্যাসী সোজা চলে গেলেন রাজার দরবারে।

সন্ন্যাসীকে তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রাজা 🫅 তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কে এবং আপনি কি চান?

তপস্বী 🧙 বললেন, “আমি একজন আধ্যাত্মিক গুরু এবং বক্তৃতা দিতে অন্য রাজ্যে যাচ্ছিলাম। কিন্তু এখন দিন ঘনিয়ে এসেছে। তাই আজ রাতে 🌃 আমি আপনার প্রাসাদে থাকব। রাত কাটানোর জন্য একটু জায়গা চাই।”

সন্ন্যাসীর 🧙 কথা শুনে রাজা 🫅 বললেন, “এটা রাজার প্রাসাদ 🏰, বিশ্রামের জায়গা নয়, আপনি এখানে রাত্রিযাপন করতে চান। আপনি বাইরে যান, সেখানে থাকার জন্য কোনো জায়গা পেয়ে যাবেন।”

তপস্বী আবার রাজাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “মহারাজ, আমি কি জানতে পারি আপনার আগে এই প্রাসাদ 🏰 কার ছিল?”

রাজা 🫅 বললেন, “এটা আমার বাবার ছিল কারণ তিনি আমার আগে রাজা ছিলেন।”

সন্ন্যাসী 🧙 আবার জিজ্ঞাসা করলেন, “ঠিক আছে, আপনার বাবা এখন কোথায়?”

রাজা 🫅 বললেন, “এখন তিনি আর এই পৃথিবীতে নেই, তার পরে আমি রাজা হলাম।”

“আচ্ছা, তোমার বাবার আগে এই প্রাসাদের মালিক কে ছিল?” সন্ন্যাসী আবার প্রশ্ন করলেন।

রাজা এবার রেগে 😡 গেলেন। কিন্তু তারপরও শান্ত হয়ে উত্তর দিলেন, “আমার বাবার আগে এই প্রাসাদ আমার দাদুর ছিল। আর এখন তিনিও এই পৃথিবীতে নেই।”

এবার সন্ন্যাসী 🧙 বললেন, এই জায়গা যা গতকালও তোমার ছিল না, তোমার চলে যাওয়ার পর অন্য কারো হবে। মানুষ এই পৃথিবীতে অল্প সময়ের জন্য থাকে, তারপর চলে যায়। যেখানে আমরা আমাদের সময় কাটাই সেটাই আমাদের বিশ্রামের জায়গা। না আপনি এটা আপনার সাথে নিয়ে যেতে পারবেন না অন্য কেউ। বলুন তো এই প্রাসাদ বিশ্রামের 🏰 জায়গা না হলে আর কি?”

রাজা 🙏 তাঁর কথা বুঝতে পেরে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইতে লাগলেন। তিনি সন্ন্যাসীকে 🧙 থাকার জায়গা দিলেন।

মোটিভেশনাল গল্প থেকে নীতি শিক্ষা

এই পৃথিবীতে সবাই খালি হাতে এসেছে এবং খালি হাতেই আবার চলে যেতে হবে। তাই অযথা মোহো না বাড়ানোয় ভালো।

আরও পড়ুন: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১২০ টি অনুপ্রেরণামূলক উক্তি

মোটিভেশনাল গল্প 9 : কখনো আশা ছেড়ো না

একবার এক লোক মাছ ধরতে 🎣 গেল। সারাদিন পরিশ্রম করে একটাও মাছ ধরতে পারলনা।

আস্তে আস্তে দিনও কেটে গেল। লোকটা মন খারাপ করে ভাবতে লাগলো, “এভাবে খালি হাতে বাড়ি গেলে রাতে কি খাবে?”

দুশ্চিন্তায় তিনি দ্রুত মাছের 🐟 বাজারে গিয়ে দোকানদারকে বললেন, “আমি তিনটি মাছ চাই তবে একটি শর্ত আছে যে তিনটি মাছই আমি জীবিত চাই এবং আমি আমার বড়শি দিয়ে মাছ ধরব 🎣 এবং তারপর কিনব।”

দোকানদার আশ্চর্য 🤷 হয়ে ভাবতে লাগলো “কি আজব মানুষ লোকটা। যদি মাছ কিনতে হয় তবে ধরার জন্য এত পরিশ্রম কেন?”

এই ভেবে সেও একটা বড় বালতি বের করে তাতে চার পাঁচটা জীবন্ত মাছ রেখে লোকটার সামনে দিয়ে বলল, “এই নাও, নিজের জন্য মাছ ধর।”

একে একে তিনটি মাছ ধরে দোকানদারকে টাকা 💰💰 দিয়ে চলে যেতে লাগল।

যাবার সময় দোকানদার জিজ্ঞেস করল, “আপনি যে মাছগুলো ধরলেন, সেগুলো ধরে আপনি কী অর্জন করলেন? আপনার সময়ও ⏰⏰ নষ্ট হল এবং আপনাকে একই পরিমাণ অর্থ 💰💰 দিতে হল।

লোকটি বলল, “তুমি বুঝবে না, কিন্তু আমি কাউকে মিথ্যা বলতে চাই না। আমি বাসায় গেলে আমার বউ-বাচ্চারা জিজ্ঞেস করবে আজকে কয়টা মাছ ধরেছো? তখন তাদেরকে আমি এই তিনটি মাছ দেখাবো, যেগুলো আমি নিজেই ধরেছি। এই কাজ করে আমি নিজেও উপলব্ধি করি যে আজ আমি ব্যর্থ হইনি এবং আগামীকাল আমি নতুন আশা নিয়ে মাছ ধরতে যাব যাতে আজকের মতো ব্যর্থ না হই।

অনুপ্রেরণার গল্প থেকে নীতি কথা

জীবনে কখনো আশা ছেড়ো না। একদিন ঠিক তুমি লক্ষ্য অর্জন করবে।

আরও পড়ুন: কাজী নজরুল ইসলামের জীবনী

Motivational Story in Bengali 10 : কৃষক ও যুবকের গল্প

একজন কৃষকের একটি খুব সুন্দর কন্যা 💃 ছিল।

এক যুবক 🤵 কৃষকের মেয়েকে বিয়ে করার ইচ্ছা 👰 নিয়ে কৃষকের কাছে এসেছিল। তিনি কৃষকের মেয়েকে বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

কৃষক তার দিকে তাকিয়ে বলল, “যুবক তুমি ক্ষেতে যাও, আমি একে একে তিনটি ষাঁড় 🐂🐂🐂 ছেড়ে দেব। তিনটি ষাঁড়ের যে কোনো একটির লেজ ধরতে পারলে আমার মেয়ের সঙ্গে তোমার বিয়ে দেব 🤵👰।”

যুবকটি এই সহজ শর্ত শুনে খুশি হয়ে ষাঁড়ের 🐄 লেজ ধরে মাঠে দাঁড়ালো।

মাঠে অবস্থিত বাড়ির দরজা ⛺ খুলে দেন কৃষক।

তখনই সেখান থেকে একটি খুব বড় এবং বিপজ্জনক ষাঁড় 🐂 বেরিয়ে এল।

যুবকটি এমন ষাঁড় আগে কখনও দেখেনি।

তাই ভয় 😨😨 পেয়ে যুবকটি পরবর্তী ষাঁড়ের জন্য অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং সে সরে যায় যাতে ষাঁড়টি তার পাশ দিয়ে চলে যায়।

দরজা আবার খুলে গেল। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এবারের ষাঁড়টি আগের চেয়েও বড় এবং হিংস্র ছিল।

যুবকটি ভাবল 🧏 “এর চেয়ে প্রথম ষাঁড়টিই ভালো ছিল। তারপর সে সরে গেল এবং ষাঁড়টিকে চলে যেতে দিল।”

তৃতীয়বার আবার দরজা খুলল। যুবকের মুখে হাসি ☺️😁 ফুটে উঠল।

এবার বেরিয়ে এল একটি ছোট ষাঁড় 🐂। ষাঁড়টি যুবকের কাছে আসতে শুরু করল।

যুবকটি তার লেজ ধরার ভঙ্গি করল যাতে এবার সঠিক সময়ে তার লেজটি ধরতে পারে।

কিন্তু এ কী, ওই ষাঁড়টির তো কোনো লেজ ই ছিল না।

Motivational Story in Bengali থেকে নীতি বাণী

তাই বন্ধুরা, প্রতিটি মানুষের জীবনই সুযোগে পরিপূর্ণ। কিছু সহজ, আবার কিছু কঠিন। কিন্তু একবার সুযোগ মিস করলে সেই সুযোগ আর পাবে না।

তাই সর্বদা প্রথম সুযোগটি গ্রহণ করার চেষ্টা করো।

আরও পড়ুন: সম্পূর্ণ মহাভারতের কাহিনী

নীতি কথা গল্প 11 : ঈশ্বর ও তার পরম ভক্ত

এটা অনেক আগের ঘটনা। একজন ব্যক্তি 🙍 ছিলেন যিনি ঈশ্বরে 🧚 অনেক বিশ্বাস করতেন এবং দিনরাত ভক্তিতে নিমগ্ন থাকতেন।

একদিন তিনি প্রভুকে দেখার জন্য একটি বড় পাহাড়ে উঠলেন। অতি উচ্চে উপনীত হয়ে পূজা করিতে লাগলেন এবং বললেন, “ভগবানে জানি যে আপনি এখানে বাস করেন, দয়া করে আমাকে আপনার দর্শন দিন।”

তাঁর ভক্তিতে খুশি হয়ে প্রভু🧚 তাঁকে দেখা দিলেন। সেই ভক্ত খুব খুশি হলেন।

ভগবানকে 🧚 দেখে সেই ভক্ত প্রশ্ন করলেন, “ভগবান আপনার কাছে দিন, মাস ও বছরের মূল্য কী?

ঈশ্বর বললেন, “মাত্র 1 মিনিট 🕐 !”

তখন সেই ভক্ত জিজ্ঞাসা করলেন, “প্রভু আপনার কাছে হাজার, লক্ষ, কোটি টাকার 💰💰💰💰💰 মূল্য কী?”

ভগবান বললেন, “এক টাকা মাত্র 🪙।”

তখন সেই ভক্ত বললেন, “ভগবান আমি এতদূর এসেছি, তুমি আমাকে এক টাকা 🪙 দাও।

তখন ঈশ্বর বললেন, “ঠিক আছে, এক মিনিট 🕐 অপেক্ষা করো।”

নীতি গল্প থেকে নীতিবাক্য

এই ছোট গল্পটি আমাদের শেখায় যে আমরা যা চায় তা কখন আমরা পাব তা কেউ জানে না। তবে এই জীবনে কঠোর পরিশ্রম করে আমরা সব কিছু অর্জন করতে পারি।

তাই চাওয়া বন্ধ করো এবং কঠোর পরিশ্রম করো। নইলে আপনার জীবনের সেই মূল্যবান ১ মিনিট নষ্ট করে ফেলবে।

সবসময় মনে রাখবে, আমাদের পরিশ্রমই আমাদের আসল উপার্জন। সময়ের আগে ভাগ্যের থেকে বেশি কেউ পায় না। কিছু না করলে কিছুই পাবে না।

যারা নিজের জন্য কিছু করে ঈশ্বর তাদেরও দান করেন, কারণ এই পৃথিবীতে ভিক্ষুকের অভাব নেই।

আপনার কঠোর পরিশ্রমকে আপনার ঈশ্বর করুন এবং আপনি একদিন না একদিন অবশ্যই এর প্রতিদান পাবেন।

আরও পড়ুন: স্বামী বিবেকানন্দের জীবনী

অনুপ্রেরণামূলক গল্প 12 : ঈশ্বর কাউকে বঞ্চিত করে না

একটি শিশু 🙋 তার মায়ের 🧕 সাথে দোকানে 🏪 কেনাকাটা 🛍️ করতে গিয়েছিল।

ছেলেটার 🙎 সরলতা দেখে দোকানদার 🧔 তার সামনে টফির বাক্স খুলে বলল, “এই নাও ছেলে, টফি 🍫 নিয়ে যাও।”

কিন্তু শিশুটি টফি নিতে অস্বীকার 🙅 করে।

দোকানদারের মনে হল শিশুটি টফি নিতে ভয় পাচ্ছে, তাই সে নিজেই বাক্স থেকে টফিগুলো 🍫🍫🍫 বের করে শিশুটিকে দিতে লাগল।

এবার শিশুটি দ্রুত সেই টফি গুলো নিয়ে পকেটে রাখল।

ফিরে আসার সময় তার মা 🧕 জিজ্ঞেস করলেন, “কাকু যখন তোমার সামনে বক্স খুলে তোমাকে টফি দিচ্ছিল, তুমি ওগুলো নিলে না এবং যখন নিজে তোমার হাতে দিল, তুমি নিয়ে নিলে, কেন?”

তখন শিশুটি 🧏 খুব সুন্দর করে উত্তর দিল, “মা, আমার হাত ছোট। আমি যদি টফি নিতাম তবে মাত্র 2-3 টা টফি আসত যেখানে কাকুর হাত বড়, তাই অনেক টফি পেলাম।

অনুপ্রেরণামূলক গল্প থেকে নীতি শিক্ষা

এই ছোট গল্পটি আমাদের শেখায় যে ঈশ্বর যখন আমাদের এই জীবনে কিছু দেন, তিনি নিজের ইচ্ছায় তা দেন এবং এটি আমাদের চিন্তার বাইরে।

আমাদের সর্বদা তাঁর ইচ্ছায় খুশি থাকা উচিত। কে জানে কোন একদিন সে হয়তো আমাদের পুরো সমুদ্র দিতে চাইবে আর আমরা চামচ হাতে নিয়ে দাড়িয়ে থাকব। তাই সর্বদা তোমার কাজ এবং সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস রাখো। যখন সঠিক সময় আসবে, তিনি তোমাকে তোমার প্রাপ্য সবকিছু দেবেন।

তোমার জীবনে কিছু হারানো বা না পাওয়ার জন্য কখনই দুঃখিত হয়ো না কারণ ঈশ্বর আমাদের জন্য যা সঠিক তাই দেন।

আরও পড়ুন: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জীবনী

Motivational Story in Bengali 13 : প্রসঙ্গ না জেনে কথা বলা অনুচিত

একটি ১৮ বছর বয়সী ছেলে 🙎, ট্রেনের 🚂 জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে চিৎকার করে বলল, “বাবা, পেছন দিকে যাওয়া গাছগুলোর 🌲🌳🌴🎄 দিকে তাকাও।”

বাবা 🧔 ছেলের 🙎 দিকে তাকিয়ে একটা ছোট্ট হাসি দিল।

পাশে বসা এক ব্যক্তি 🧑‍💼 ছেলেটির শিশুসুলভ কথা শুনছিলেন।

ছেলেটি আবার চিৎকার করে বললো, “বাবা, দেখ মেঘ ☁️⛅☁️ আমাদের সাথে হাঁটছে।”

এবারও বাবা কিছু বললেন না শুধু একটা হাসি 😁 দিলেন।

পাশে বসা লোকটি 🧑‍💼 সাহায্য করতে না পেরে ছেলেটির 🙎 বাবাকে 🧔 বলল, “আপনি আপনার ছেলেকে ভালো ডাক্তারের 🧑‍⚕️ কাছে নিয়ে যান না কেন?”

লোকটি🧔 হেসে বলল, “হ্যাঁ আমি ডাক্তারকে 🧑‍⚕️ দেখিয়েছি এবং আমরা হাসপাতাল 🏥 থেকে ফিরে আসছি। আমার ছেলে🙎 জন্ম থেকেই অন্ধ ছিল এবং আজ আমরা তার চোখের 👀 অপারেশন করে বাড়ি 🏠 ফিরে যাচ্ছি।”

Motivational Story in Bengali থেকে নীতি কথা

এই গল্পটি আমাদের শেখায় যে আমাদের কখনই প্রসঙ্গ না জেনে কাউকে বিচার করা উচিত নয়।

এই পৃথিবীতে প্রত্যেকেরই তাদের জীবনের কিছু গল্প থাকে যা আমরা খুব কমই জানি, তাই কাউকে নিয়ে কিছু ভাবার আগে বা তাদের বিচার করার আগে, সেগুলিকে সঠিকভাবে জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কখনও কখনও সত্য আমরা যা ভাবি তার থেকে অনেক আলাদা।

আমরা প্রায়শই পুরো গল্প না জেনে মানুষ সম্পর্কে আমাদের নিজস্ব গল্প তৈরি করতে শুরু করি। কাউকে বিচার করা বা কারও সম্পর্কে কিছু মনোভাব তৈরি করা একটি খুব খারাপ অভ্যাস।

এমন লোকদের থেকে সবসময় দূরে থাকা উচিত যারা মানুষের কথা চিন্তা না করেই বাজে ধারণা তৈরি করে এবং যারা অন্যদের নিয়ে আজে বাজে কথা বলে।

Also Read: সম্পূর্ণ রামায়ণের কাহিনী

মোটিভেশনাল ছোট গল্প 14 : অভিযোগকারী সর্বদা অজুহাত খোঁজে

এই গল্পটা এমন এক লোক সম্পর্কে যার একটা আপেল 🍎🍏🍎 বাগান ছিল। কিন্তু তার সারাক্ষণ কান্না 😢😭 করার অভ্যাস ছিল।

তিনি সবসময় দুঃখী 😔 থাকতেন। কখনো অত্যধিক বৃষ্টি 🌧️ হতো, কখনো শুকিয়ে ☀️ যেত, কখনো বন্যা 🌊 হতো আবার কখনো তার ফসলে পোকামাকড় 🦗🪲🐛🪳 ঢুকে যেত। আবার কখনো ফল পচে যেত। যখনই তার ফসল খারাপ হত, সে ঈশ্বরকে 🧚 অভিশাপ দিতে থাকে।

আর যে কোনো বছরে আপেলের 🍎🍎🍎 ফলন ভালো হলে বাজারে দাম কমে যেত এবং লাভও কমে যেত।

কিন্তু এক বছর সব ঠিকঠাক চলল, না বেশি রোদ, না বেশি বৃষ্টি, না বন্যা, না ফসলে পোকামাকড় দেখা যায় এবং বাজারে দামও ভালো ছিল এবং সবাই প্রচুর অর্থ 💰💰💰 উপার্জন করেছে।

কিন্তু এবারও ব্যক্তিটি আগের মতোই দুঃখী ও বিচলিত।

তাকে দুঃখিত দেখে প্রতিবেশী তাকে বলল, “আরে ভাই, এখন খুশি হও। এমন আপেল আমি জীবনে দেখিনি। সমস্ত আপেল চাষীরা খুশি এবং তাদের অর্থের অভাব নেই। তবে তুমি কেন দুঃখিত এবং কেন আপনি ঈশ্বরকে অভিশাপ দিচ্ছ?”

লোকটি বলল, “এই লোকগুলো বোকা যারা সুখী হচ্ছে। এই বোকারা সম্ভবত লক্ষ্য করেনি যে এই বছর কোনও আপেল পচেনি, তাই প্রাণীদের 🐂🐃🐄🐎🐏🐕🐖 প্রচুর ভালো আপেল খাওয়াতে হবে। প্রতি বছর আমরা খারাপ ফল পশুদের খাওয়াতাম। আর এই বছর আপেলের দাম অনেক। আমাদের বাপ-দাদারা কখনো পশুদের এমন মূল্যবান ফল খাওয়ায়নি। হাই এই বছর আমি চিন্তাই 🙇 পড়ে গেলাম।”

মোটিভেশনাল ছোট গল্প থেকে নীতি বাণী

এই গল্পটি আমাদের শেখায় যে, যার কান্না করার অভ্যাস আছে, সে কান্নার জন্য কোন না কোন অজুহাত খুঁজে নেয়। এর মানে হল যে বিপরীত চিন্তার মানুষ তার সুখের মধ্যে শুধু দুঃখ দেখে এবং কান্না করে।

অভিযোগকারী মানুষের হৃদয় ছোট। তারা তাদের সুবিধাগুলি অন্যদের সাথে ভাগ করতে পারে না। এই ধরনের লোকেরা কেবল নিজের সুবিধার কথা চিন্তা করে এবং তারা চায় না যে তাদের কারণে অন্য কারও কোনও উপকার হোক।

তাই আপনার চিন্তাধারা সোজা করুন।

ভুল চিন্তা একজন মানুষকে শুধুমাত্র দুঃখ এবং হিংসা দেয়।

ইতিবাচক চিন্তা প্রতিটি মানুষকে সুখী রাখে।

আরও পড়ুন: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনী

নীতি শিক্ষামূলক গল্প 15 : নিজের উপর বিশ্বাস রাখো

একদল ব্যাঙ 🐸🐸🐸🐸🐸 বনের পথ দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ গভীর গর্তে দুটি ব্যাঙ 🐸🐸 পড়ে গেল।

অন্য ব্যাঙগুলো যখন দেখল গর্তটা 🕳️ অনেক গভীর, তখন উপরে দাঁড়িয়ে থাকা সব ব্যাঙ চিৎকার করে বলতে লাগলো, “তোমরা দুজনেই এই গর্ত থেকে বেরোতে পারবে না, গর্তটা অনেক গভীর। তোমরা দুজনেই গর্ত থেকে ওঠার আশা ছেড়ে দাও।”

ওই দুটি ব্যাঙ 🐸🐸 সম্ভবত উপরে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যাঙের কথা শুনতে পায়নি এবং গর্ত 🕳️ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য অবিরাম ঝাঁপ দিতে থাকে।

বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যাঙগুলো বলতে থাকে, “তোমরা দুজনেই বৃথা চেষ্টা করছ। তোমাদের হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত।”

গর্তে পড়া দুই ব্যাঙের একজন 🐸 উপরে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যাঙের কথা শুনে লাফ দিয়ে চলে যাওয়ার পর হতাশ হয়ে এক কোণে বসে পড়ল।

অন্য ব্যাঙ চেষ্টা করতে থাকে, যতটা পারে লাফ দেয়।

বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা সমস্ত ব্যাঙ ক্রমাগত বলছিল যে তুমিও হাল ছেড়ে দাও।

কিন্তু সেই ব্যাঙ সম্ভবত তাদের কথা শুনতে না পেয়ে লাফ দিতেই থাকল এবং অনেক চেষ্টার পর বেরিয়ে এল।

অন্য ব্যাঙগুলো বলল, ‘তুমি আমাদের কথা শুনতে পাউনি?”

সেই ব্যাঙটি ইশারা করে দেখিয়েছিল যে, সে তাদের কথা শুনতে পায় না কারণ সে বধির 🙉। সে ভাবছিল সবাই তাকে উৎসাহ দিচ্ছে।

নীতি কথা গল্প থেকে শিক্ষা

  1. আমরা অন্যদের যাই কথা বলি, সেগুলি মানুষের উপর প্রভাব ফেলে, তাই সবসময় ইতিবাচক কথা বলুন।
  2. লোকেরা যাই বলুক না কেন, নিজের উপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখুন এবং ইতিবাচকভাবে চিন্তা করুন।
  3. পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং ইতিবাচক চিন্তার মাধ্যমেই আমরা সাফল্য পাই।

♨️ সমাপ্ত ♨️

আশা করি তোমার এই ১৫ টি অনুপ্রেরণামূলক গল্প (Motivational Story in Bengali) পরে তুমি একটু হলেও অনুপ্রাণিত হয়েছ।

এই মোটিভেশনাল ছোট গল্প গুলো সম্পর্কে তোমার কোনো মতামত থাকলে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে ভুলো না।

আর এই মোটিভেশনাল গল্প গুলো অবশই সবার সাথে Share করো।

Also Read:

Leave a Comment